সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
সবুজ দেয়াল, ফ্ল্যাট নয় যেন ছোট্ট এক বনানী—ভবিষ্যতের বাসস্থান এখন বদলে যাচ্ছে ইনস্পেস আর্কিটেক্টসে!
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে থাকা ভবনের বাইরেটা সবুজে ঢাকা—এমন দৃশ্য এখনও অনেকের কাছে বিস্ময়। কিন্তু ইনস্পেস আর্কিটেক্টস লিমিটেড সেই বিস্ময়কে প্রতিদিনের বাস্তবতায় রূপ দিচ্ছে। ২০১৫ সালে র্যাংগস প্রপার্টিজে কাজ করা একদল স্থপতির স্বপ্ন থেকে জন্ম এই প্রতিষ্ঠানের, যেখানে প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন ওয়াহিদুর রহমান এবং তাঁর সঙ্গে তিন প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট—হিমেল কুমার সাহা, ওয়াহিদ আহমেদ ও আয়েশা শফিক।
এই ৮ বছরে ইনস্পেস দেশের নানা প্রান্তে নির্মাণ করেছে আধুনিক, টেকসই আর সবুজ চিন্তাধারায় গড়া অসংখ্য স্থাপনা। ভার্টিক্যাল গার্ডেন, সবুজ ফেকাড, ল্যান্ডস্কেপিং এবং রুফটপ গার্ডেন—তাঁদের ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, এগুলো ছাড়া আধুনিক বাসস্থান পূর্ণতা পায় না।
পরিবেশবান্ধব নকশার মাধ্যমে ঢাকার মতো শহরে টেকসই স্থাপনা নির্মাণে ইনস্পেস হয়ে উঠেছে পথপ্রদর্শক। তাদের কাজগুলো যেমন “ডায়োরামা”, “মিরান্ডা”, “মেরিসা”, “রিফ্লেকশন” বা “মেমোরি ৭১”—এই ভবনগুলোর দিকে তাকালেই চোখে পড়ে গাছপালা, আলো-বাতাসের খেলা আর আধুনিক জ্যামিতিক গঠন। এতে যেমন বাড়ে প্রশান্তি, তেমনি কমে শক্তির ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ।
স্থাপত্যের ভাষায় ইনস্পেস তুলে ধরেছে মিনিমালিজম—অতিরিক্ত অলংকরণ নয়, বরং কাজের সুবিধা ও স্বস্তির দিকটাই এখানে মূল। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নকশায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের চলাচল নিশ্চিত করা, সবুজ ছাদ আর ভেজিটেশন ফেকাড শহরের মানুষের মনেও স্বস্তি আনে। এই নকশা শুধু চোখের আরাম নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও রাখে ইতিবাচক প্রভাব।
ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “স্থাপত্য কেবল নির্মাণ নয়, এটি পরিবেশ আর জীবনের গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।” ইনস্পেসের প্রতিটি ডিজাইনে তাই দেখা মেলে টেকসই উপকরণ, ফাংশনাল স্পেসিং আর গঠনগত স্বচ্ছতা। এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গড়ে তুলছে এমন একটি জীবন্ত শহর, যেখানে দালান নয়, থাকবে প্রাণ, প্রকৃতি আর প্রশান্তি।
সব মিলিয়ে ইনস্পেস আর্কিটেক্টস এখন আর শুধু একটি ডিজাইন ফার্ম নয়—এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের আধুনিক, সবুজ ও সাসটেইনেবল স্থাপত্য চিন্তার এক অনন্য নাম।